Broadcast India News.

Broadcast India News.

6th September, 2026

21st july

21st july

একুশে জুলাই আসতে আর মাত্র একটা দিন বাকি । এই দিনটি তৃণমূলের রাজ্য রাজনীতিতে একটি বিশেষ দিন । তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এই দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করা হয় । কারণ তাদের কাছে এই দিনটি এটি শহীদ দিবস নামে পরিচিত ।কিন্তু একুশে জুলাই এর দিনটিকে কেন শহিদ দিবস বলা হয় জানেন কি ?

আজ থেকে ৩২ বছর আগেকার ঘটনা । ১৯৯৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একুশে জুলাই এর দিনটিতে পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেস ভোটার কার্ডকে ভোটিঙের জন্য একমাত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে কলকাতার ধর্মতলায় এক সমাবেশের আয়োজন করেছিল । সেই সমাবেশ থামাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামানো হয়েছিল । সেই সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জন নিরাপরাধ ব্যক্তির । সেই দিনটি এখনো ভোলেনি মানুষ । আজও তার ঘা দগদগে হয়ে আছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ।

সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী। একুশে জুলাই এর দিনটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে । তাই ক্ষমতায় আসার পর থেকে,প্রতি বছর ২১শে জুলাইকে পশ্চিমবঙ্গে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে, ১৩ জন নিহত ব্যক্তিকে "শহীদ" হিসেবে ঘোষণা করা নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল বিতর্ক , কারণ সেই সময় অনেকের হাতেই সশস্ত্র ছিলেন এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাহলে এই ১৩ জন কি করে শহীদ হয় ?

আপনারা কি জানেন প্রথমে এই কর্মসূচির দিন ঠিক হয়েছিল ১৪ জুলাই। কিন্তু, ওই সময় প্রাক্তন রাজ্যপাল নুরুল হাসানের প্রয়াণের কারণে, কর্মসূচির দিন পিছিয়ে ২১ জুলাই করা হয়।

সেই দিনের ২১ জুলাই এর প্রতিবাদের জমায়েতের পুরোভাগে ছিলেন মমতা নিজে। তার সঙ্গে মিছিলে ছিলেন সৌগত রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মদন মিত্ররা।

ওই কর্মসূচিতে আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রায় কয়েক হাজার কংগ্রেস সমর্থক।

বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচি সেই দিনটিতে মহাকরনে পৌঁছানোর আগে ধুন্ধুমার শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘাত বেঁধে যায় যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের। পুলিশি বাধা ঠেকাতে শুরু হয় ইট-পাথরবৃষ্টি। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।

সারা কলকাতা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড করে দেয়া হয়েছিল । ওই কর্মসূচিতে পুলিশের ভ্যানে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়।

সেই দিন আন্দোলনকারীদের সরাতে দুপুর ১:৪৫ নাগাদ পুলিশ দাঙ্গাকারীদের উপর গুলি চালাতে শুরু করে। আর তাতেই প্রাণ যায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। সেইসব মৃতদের স্মরণেই পালন করা হয় আজকের এই দিনটি, যা 'শহিদ দিবস ' নামে পরিচিত ।

সেদিনের কর্মসূচিতে যারা মারা গিয়েছিলেন তারা হলেন , শ্রীকান্ত শর্মা, দিলীপ দাস, মুরারী চক্রবর্তী, রতন মণ্ডল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ রায়, অসীম দাস, কেশব বৈরাগী, রঞ্জিত দাস, প্রদীপ রায়, বন্দনা দাস, ইনু মিঞা এবং আবদুল খালেক যাদের নামের পাশে আজ শহীদ শব্দটি যুক্ত হয়েছেন ।

তবে প্রশ্ন উঠেছিল সেদিন পুলিশ কার নির্দেশে গুলি চালিয়েছিল? যার উত্তর আজও মেলেনি ।