Broadcast India News.

Broadcast India News.

15th May, 2026

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী

বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি ও বাংলাভাষীদের হেনস্থার প্রতিবাদে গতকাল ঝাড়গ্রামে 'ভাষা আন্দোলন' করেন মমতা। সেখান ২৬ এর বিধানসভা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি 'বিজেপি-র ক্রীতদাস' বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী ।

বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে দুই WBCS অফিসার-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমার দু'জন অফিসারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে যে সাসপেন্ড করা হল। নির্বাচনের ঘোষণা কি হয়েছে? কোন আইনের বলে নোটিস পাঠিয়ে দিচ্ছো? সাসপেন্ড করছো, বলে দিচ্ছো, এফআইআর করতে হবে। হবে না। আমি কাউকে শাস্তি পেতে দেব না। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। অফিসাররা যদি অন্যায় করে না থাকেন, তাঁদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষমতা আছে আমাদের। যে সবচেয়ে বড় চোর, সেই ডাকাত কিনা সুপারিশ করে। সিবিআই দেখে যে বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা ফেলে দিয়েছিল। বেশি কথা বলবেন না। আমি জানি কার কী ক্ষমতা। আমাকে ঘাঁটাবেন না। আমাকে ঘাঁটালে ইতিহাস বের করে দেব। ভদ্রভাবে কাজ করুন, দায়িত্ব পালন করুন নিজের। সম্মান করব। সিবিআই-এর হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়ির উপর থেকে কোটি কোটি টাকা ফেলে দিয়েছিলেন। একদিন পাবলিকলি নাম করে দেব, সেদিন বুঝবেন। বাড়ির লোকের সম্মানও পাবেন না। এনাফ ইজ এনাফ।"

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গাঁধীজিকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলেন, যার শেষ লাইন ছিল, 'ভয় না পেলে, ভয় দেখাবে কাকে'। আজ অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছো, পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছো। আপনাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে আমরা আছি । জীবন দিয়েও রক্ষা করব আমরা। কোনও চিন্তা করবেন না, হতাশ হবেন না। দু'মাসের জন্য নির্বাচনের সময় আসেন, আবার বসন্তের কোকিলের মতো উড়ে যান। নির্বাচনের অনেক দেরি আছে। এখন থেকে সাসপেন্ড করছেন! হরিদাস সব, বিজেপি-র ক্রীতদাস এরা। ক্ষমতা দেখাচ্ছো! চেয়ারে বসে অমিত শাহের দালালি করছো?"

কমিশনকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নির্বাচন কমিশন, চেয়ারটাকে সম্মান করে বলি, ব্যক্তি হিসেবে তিনি হচ্ছেন অমিত শাহের হাতের পুতুল। কলের পুতুল। যেদিকে নাচাবেন, সেদিকে নাচবেন। তিনি ওঁর (শাহের) ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন। কো-অপারেশন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তাঁর এত বড় ঔদ্ধত্য। তাঁর এত বড় ক্ষমতা। তিনি বাংলাকে চোখ রাঙান। আমরা বলি, চোখ রাঙানো ভাল, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখুন। নইলে আমরা যখন ধরব, শেষ করে ছাড়ব, রাজনৈতিকভাবে। আধার, প্যান এত কার্ড বানানো হয়েছে। এখন বলছে নেবে না। গুজরাতে বসে বাংলার মানুষের নাম কাটছে। পরিষ্কার বলছি NRC মানি না, তা হবে না। ভাষার উপর অত্যাচার মানব না আমরা। ভাষার উপর সন্ত্রাস মানছি না, মানব না।"

গতকালের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন NRC করে বা কারচুপি করে হটানো যাবে না আমাকে । তাঁর কথায়, "আমি যেদিন নিজে মনে করব, আমাকে সরাতে পারবেন। আমি নিজে না মনে করলে, আপনাদের লোকেরাও আমাকে ভোট দেবে। কারণ তাদেরও আশ্রয় চাই, ঠিকানা চাই। রোটি-কপড়া-মকান, এটাই আমার হিন্দুস্তান। রোটি-কপড়া-মকান না থাকলে কিছুই থাকবে না। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে লড়াই করব। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।"

মমতাকে কটাক্ষ করে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা বিজেপি-র কাজ নয়। আমাদের লক্ষ্য একটাই, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা, রোহিঙ্গামুক্ত, বাংলাদেশি জিহাদিমুক্ত ভোটার তালিকা। মৃত ভোটারদের যে নাম রয়ে গিয়েছে, ভুয়ো ভোটারদের যে নাম রয়েছে, সেগুলি বাদ যাবে। ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা মানুষকে উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের । মানুষ সুষ্ঠ, অবাধ, শান্তপূর্ণ ভোট চান, ত্রুটিমুক্ত তালিকা চান। ওঁর বক্তব্য মৃত ভোটারের নামও রেখে দিতে হবে। মানুষ ঠিক করবেন কোনটা ঠিক, কোনটি বেঠিক।"

NRC-র আতঙ্কেমানুষ আত্মহত্যা করছেন। মমতা বলেন,"আমরা সবাই ভোটার। হঠাৎ করে বিজেপি ঠিক করল, কীভাবে জিতব? নাম বাদ দাও। এটা বিজেপির চালাকি। এর পিছনে NRC চক্রান্ত আছে।"

মমতার এই যুক্তির বিরোধিতা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "কেউ আত্মহত্যা করেননি। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ISIS জঙ্গি গ্রেফতার হচ্ছে, রাজ্যের মধ্যে দিয়ে ভারত বিরোধী মডিউল ছড়িয়ে পড়ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলছে, পশ্চিমবঙ্গেই সবচেয়ে জালনোট পাওয়া যায় ৭২ শতাংশ। বাংলাদেশি নাগরিকরা আধার, ভোটার পেয়ে যাচ্ছেন। অবিজেপি রাজ্যগুলিতেও কিন্তু পরিচয় যাচাই হচ্ছে! একটা দল দুর্নীতির পাঁকে ডুবে গিয়েছে। সেই দল সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে। মানুষের নজর ঘোরাতে চাইছে এখন।"