স্মার্ট ক্লাসরুম নিয়ে তৃণমূল বিধায়ককে কটাক্ষ রচনা ব্যানার্জীর।
- By Broadcast India
- 1st August, 2025 02:49 PM
তৃণমূল ও বিরোধী দলের মধ্যে নানা রকম দ্বন্দ্ব, ঝামেলা হামেশাই সামনে আসে। এবার বিরোধী দল নয় ঝামেলা নিজের দলেরই সাংসদ ও বিধায়কের মধ্যে। সামনে এলো চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার ও হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এর মধ্যে বিবাদ। একটি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরিকে কেন্দ্র করে দু’জনের দ্বন্দ্ব সামনে এল।
তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারকে নিশানা করে তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “ওঁর বয়স হয়েছে তো। মাথা কাজ করছে না।”
সূত্রের খবর বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া বাণীমন্দির স্কুলে হঠাৎ গিয়ে উপস্থিত হন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে স্মার্ট ক্লাসরুমের সম্বন্ধে অভিযোগ শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান। উল্লেখ্য রচনার সাংসদ তহবিল এর টাকা থেকে ওই স্কুলে মেয়েদের জন্য যে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে অশ্রাব্য ব্যবহার করেন । শুধু তাই নয় প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গে বিধায়ক দুর্ব্যবহার করেন স্মার্ট ক্লাসরুমের বরাত পাওয়া নিয়ে এবং তাকে কেন এই সমস্ত বিষয়টি জানানো হয়নি তা নিয়েও ।

প্রধান শিক্ষিকার কাছে সমস্ত অভিযোগ শোনার পর রচনা বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আশ্চর্যজনক ঘটনা। স্মার্ট ক্লাসরুম প্রয়োজন ছিল। বাণীমন্দির স্কুল চেয়েছিল। আমি দিয়েছি। আরও অনেক স্কুলে দেব। তৃণমূল বিধায়ক শিক্ষিকাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। শিক্ষিকাদের একটা সম্মান আছে। এইরকম মন্তব্য কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরো বলেন, “আগামী দিনেও কাজ করব। স্কুলের উন্নতি করব। স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করব। কার কত দম আছে দেখব। এই ঘটনা যাঁকে জানাবার, তাঁকে জানাব। আগামী দিনে যাতে না হয়, সেটা দেখব। উনি বোধহয় চাইছেন না স্মার্ট ক্লাসরুম হোক। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। আমার সাতজন বিধায়কের একজনই হয়ত দলের বদনাম করছেন। ৬ জন দলের কথা ভাবেন।”
রচনা ব্যানার্জীর মন্তব্যের পর বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, “উনি আমার দলের সাংসদ। উনি যেটা বলতে পারেন আমি সেটা পারি না। আমি সাংসদের কথার উপর কোনও কথা বলবো না। যা বলার দলকে বলব।”

প্রধান শিক্ষিকার উদ্দেশ্যে বিধায়ক বলেন, “প্রধান শিক্ষিকা থানায় লিখিত অভিযোগ করুন। প্রধান শিক্ষিকা কিছু অভিযোগ করলে, যা বলার তাঁকে বলব। আমি ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। পড়ুয়া, অভিভাবকদের দেখার দায়িত্ব আমার।”
উল্লেখ্য এর আগেও চুঁচুড়ায় নিজেদের মধ্যে একাধিক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন অসিত ও রচনার । চুঁচুড়ায় রচনার কর্মসূচির সময় যেমন অসিতকে দেখা যায়নি তেমনি বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভবনে এক অনুষ্ঠানে অসিত থাকলেও রচনাকে দেখা যায়নি। জানি দলের মধ্যে চলতে থাকে নানান কানাঘুষো ।প্রসঙ্গত বিধানসভা ভোটের আগে বিধায়ক ও সংসদের এই লড়াই তৃণমূলের মধ্যে অনেক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
